২৯টি সিআইআই-তেই সার্ট টিম গঠনের আহ্বান

৯ জুলাই, ২০২৩ ১১:৫৮  

এবার সাইবার নিরাপত্তায় উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এওয়্যারনেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ সম্মাননা প্রতিযোগিতা। এ জন্য ৩০ জুলাই থেকে ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, পেশাজীবি, অভিভাবক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ সম্মাননা পেতে ৫ ক্যাটাগরিতে প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হবে অনলাইনে। প্রতি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের দেয়া হবে ১০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জের পর এই সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে ইউএনডিপি বাংলাদেশ।

রোববার আগারগাঁওয়ের আইসটি টাওয়ারের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অডিটরিয়াম মিলনায়তনে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘তথ্য আগামী দিনের অর্থ’ উল্লেখ করে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে গঠিত সার্ট থেকে ২৯টি স্পর্শকাতর তথ্য অবকাঠামোর (সিআইআই) সুরক্ষা ও তদারকিতে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেই একটি করে নিজস্ব সার্ট টিম থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন পলক।   

এছাড়াও নাগরিক সুরক্ষায় সচেতনতা ও কারিগরি জ্ঞানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিশেষ জ্ঞান না থাকলেও সাধারণ জ্ঞান থেকে বলতে পারি, আমাদের সাইবার জগতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের ৪টি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে নাগরিকদের পরিবার, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষার্থী ও শিশুদের সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি তাদের যথাযথ সচেতন করতে হবে। ডিজিটাল স্বাক্ষরতা কি, সাইবার সুরক্ষা এবং কিভাবে তারা নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করবে এই তিনটি বিষয়ে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি তাদের কারিগরি সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আর এই কাজটি করতে হবে সম্মিলিত ভাবে। কেননা কেউ বা কোনো দেশই একা একা নিজেদের ন্যাশনাল সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে পারবে না।               

আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব নয় মন্তব্য করে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সার্টের নির্দেশনা না মানা এবং টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটেছে। হ্যাক নয়, সিস্টেম দুর্বলতার কারণে একটি সরকারি ওয়েবসাইটে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মোচন হয়েছিলো।

এমন অনাকাঙ্খিত বিষয় রোধ এবং ডেটার সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখে সতর্কতার সঙ্গে একটি ‘ডেটা সুরক্ষা আইন’ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং তা শিগগিরই আইনে পরিণত করা হবে বলে জানিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।  

প্রতিযোগিতায় উদ্ভাবনী প্রকল্প জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে পলক বলেন, আমরা বিশ্বাস করি "বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস অ্যাওয়ার্ড" এমন ব্যক্তি ও সংস্থাকে সামনে আনতে সক্ষম হবে যারা এই চ্যালেঞ্জ থেকে আমাদের সমাজকে উত্তরণ করতে লড়াই করছে। একটি ঝুঁকিমুক্ত এবং নিরাপদ সাইবার বিশ্ব অর্জনের জন্য সমস্ত সেক্টর, সুশীল সমাজ, সরকার, গণমাধ্যম ইত্যাদির সহযোগিতামূলক ও যৌথ প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। এবং এই সচেতনতা পুরস্কার সেই সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টাগুলিকে সারা বিশ্বে স্বীকৃত এবং প্রচার করতে সাহায্য করবে। আমরা আশাবাদী যে আমরা যদি একসাথে কাজ করি তবে আমরা সবার জন্য একটি নিরাপদ ও অনুকূল বিশ্ব রেখে যেতে পারব।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো: সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি ভ্যান এনগুয়েন, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি’র মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো: কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক রনজিৎ কুমার, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাদাত রহমান।